“আমরা যারা নয়ের দশক শুরু করেছিলাম তারা কিন্তু কেউ প্রান্তিক চাষী, কেউ ফেরিওয়ালা, কেউ কয়লা খনির শ্রমিক। নব্বই দশকেই প্রথম কবিতা কলকাতা থেকে মফস্বল হয়ে গ্রামের প্রান্তে পৌঁছয়। সত্তর দশকে কবিতা কলকাতা থেকে মফস্বলে পৌঁছেছিল। আর নব্বই দশকে কবিতা মফস্বল শহর থেকে গ্রামের প্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। যেজন্য নব্বইয়ের দশক উল্লেখযোগ্য।নব্বই দশকের কবিরা শুধু অবক্ষয়ী নগ্ন আধুনিক কবিতা লেখেনি, তাদের প্রয়োজন হয়নি ভিটা গোল্ড এক্স কিংবা ভায়াগ্রার। তারা দারিদ্র্য দেখেছে, ধান ফুল দেখেছে, মাঠে মাঠে গাই-গরু চরিয়েছে, কয়লা খাদান থেকে কয়লা তুলে হাত ধুয়ে কবিতা লিখেছে জীবনের, আনন্দের, দুঃখের। এবং নব্বই দশকের প্রায় সত্তর শতাংশ কবি মদ্যপান থেকে বিরত থেকেছে।” কথাগুলি লিখেছিলেন নব্বই দশকের অন্যতম কবি রুদ্র পতি। এই গ্রন্থে আছে তাদেরই কথা। নব্বইকে যেমন দেখেছিলাম,নব্বইকে যেমন যাপন করেছিলাম, নব্বইকে যেমন চিনেছিলাম সেইসবই একে একে তুলে ধরেছি। না কোথাও ছলনা নেই, কৃত্রিমতা নেই, যেন মাটি থেকে উঠে আসা গন্ধ, কবির গায়ের ঘামের গন্ধ, শুকিয়ে যাওয়া শরীরে ঝরে পড়া নুনের স্বাদ, কবির নির্ঘুম প্রহর, চাকুরী বিহীন বেকার জীবনের হাহাকার, কীভাবে এইসব লেখার বিষয় হয়ে উঠেছিল…. তাই নিয়েই এই গ্রন্থ।কবির প্রেমের ভাষা, দুঃখের ভাষা, স্বপ্নের ভাষা এবং আত্মহত্যার ভাষাও কীভাবে কবিতার বিনির্মাণ করেছিল তারই একটি পূর্ণাঙ্গ দলিল।
নব্বই দশক থেকে শূন্য দশকের পথে পৌঁছাতে পৌঁছাতে আমরা আরও কয়েকজন উল্লেখযোগ্য কবিকে পেয়ে যাই। এঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন: দিশারী মুখোপাধ্যায়, রজতেন্দ্র মুখোপাধ্যায়, প্রবীর চক্রবর্তী, সুনিতা পাল, অমিতাভ দাস, শেখর বন্দ্যোপাধ্যায়, অনির্বাণ ঘোষ, পাপ্পু মণ্ডল, অনিমেষ মণ্ডল, অরিন্দম রায়, সুবন্তময় ডাকুয়া, অর্জুন বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবাশিস সাহা, অতনু বন্দ্যোপাধ্যায়,আশিস গোস্বামী, পাপড়ি ভট্টাচার্য, শুভ্রনীল, শৌভ চট্টোপাধ্যায়, চিরন্তন সরকার, সুনীলকুমার মোদক, নিশীথ ষড়ঙ্গী, রাজর্ষি দাশভৌমিক, রাহুল বিদ, ঋপণ আর্য, সঞ্জয় ঋষি, অনির্বাণ পাল, শ্যামসুন্দর মুখোপাধ্যায়, অরিত্র শীল, অভিমন্যু মাহাত, দীপাঞ্জনা শর্মা, শ্যামচাঁদ বাগদি প্রমুখ আরও বহু কবিকে। নব্বইয়ের উজ্জ্বল উপস্থিতির পাশে এই কবিদের কবিতার উদ্ধৃতিও প্রোজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। এই তরুণ কবিরা নব্বইয়ের শেষপ্রান্তে কেমন লিখতেন? কেমন তাঁদের বুদ্ধিদীপ্তির ধার, ব্যক্তিচেতনার এবং শব্দক্ষমতার কেমন প্রাখর্য তা আঁচ করা যাবে বইটিতে। আবার সত্তর দশকের কবিরাও নব্বইয়ে এসে কেমন কবিতা লিখতেন তাও সহজে অনুধাবন করা যাবে। বিনায়ক, শ্রীজাত, পৌলোমী, শিবাশিস, মানস, রিমি, পারমিতা, পিনাকী, মন্দাক্রান্তা, নাসিম এ , সেবন্তী, বিভাস, রূপক, সাম্যব্রত, স্মরণজিৎ, সুবীর, ফাল্গুনী, মধুমঙ্গল, শুভজিৎ, যুধাজিৎ, বিদ্যুৎ, জয়দীপ, জয়নাল, মনোতোষ, সুনীল, শঙ্খশুভ্র, কাব্যশ্রী, নির্মাল্য, সৌমিক, ধীমান, আশিস, চিত্তরঞ্জন, বারীন, রুদ্র, সুতপা, অর্ণব, অনিন্দিতা, অংশুমান, কৌশিক, সংঘমিত্রা, সুহিতা, তসলিমা, বল্লরী, তিলোত্তমা, পারমিতা, অদিতি, আনন্দি, সুমনা, কাবেরী, শর্বরী, সর্বাণী, সুজাতা, শ্বেতা, মল্লিকা, জরিনা, দীপশিখা, দীপংকর, অমর, শুভেন্দু, প্রবীর, বিকাশ, নবকুমার,সৌমনা প্রমুখ অজস্র কবির কবিতার উদ্ধৃতি এবং নির্মাণকৌশলও এই গ্রন্থে দেওয়া আছে। হ্যাঁ কবিদের পদবী না লিখলেও প্রত্যেকেই স্ব-স্বমহিমায় বাংলা সাহিত্যে উজ্জ্বল। মাত্র কয়েকটি নামই স্মৃতি থেকে বলতে পারলাম।বইটি হাতের কাছে রাখলে বোঝা যাবে তাঁদের লেখার ধার ও ধরনও।
প্রকাশিত
মুক্তির দশক নব্বইয়ের কবি ও কবিতা
তৈমুর খান
বইটির মুদ্রিত মূল্য : ২৫০ টাকা
প্রয়োজনে যোগাযোগ : 8391058501
(হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা ফোন)

0 Comments