সামাজিক বন্ধন - অসীম চন্দ্র পাল

 

অসীম চন্দ্র পাল

সামাজিক বন্ধন - অসীম চন্দ্র পাল

জন্মের পরপরই সমাজ মানুষকে তার চিরচেনা, চিরজানার জগতে একেবারে নাছোড়বান্দা অক্টোপাসের মত আবদ্ধ করে ফেলে। ভালো ও মন্দে,

কবিতা ও ছন্দে সর্বোপরি জীবনের কঠোরতাম দুঃখে আর কঠোরতম দ্বন্দ্বে।

মানুষ জীবন ধারণের জন্য সমাজ থেকে অনেক কিছু উপহার পায়। জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মানুষকেও তার অনেক প্রিয় জিনিস সমাজের জন্য উৎসর্গ করতে হয়। দোলাচলে দোলে কিংবা মনের জানা-অজানায়, আর নয়তোবা মনের ভুলে।

সমাজ থেকে মানুষ বহুমাত্রিক ধারণা পায়, সমাজ অনেক নতুন নতুন ধারণার জোগান দেয়। একজন মানুষ তার জীবনের শুরুটা কিভাবে করতে হবে তার মোটামুটি একটি বদ্ধমূল ধারণা সমাজ থেকেই লাভ করে। কোন কোন ক্ষেত্রে সমাজ মানুষের অগ্রযাত্রায় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়, মানুষ ও মাঝে মাঝে তার চিরচেনা মনুষ্যত্বকে যখন হার মানায়।

সমাজ যথারীতি থাকে অন্ধ,যেখানে ন্যায়ের পথ থাকে সহসাই বন্ধ। ন্যায় পালন কোন ক্ষেত্রেই যেখানে হয়না সেখানে সামাজিক ন্যায়নীতির ব্যাপারে মানুষ মনে ধারণ করে মন্দ ধারণা।

দিনে দিনে ক্রমবিবর্তনের মাধ্যমে একশ্রেণীর মানুষ সমাজকে তার স্বার্থের উপযুক্ত জায়গায় দাঁড় করিয়ে রেখেছে। সমাজ কেবল তাদের কথাই বলে,তাদের নির্দেশিত পথে চলে। এর ব্যাত্যয় হলেই চলে শোষণ আর নিপীড়ন।

সমাজ মানুষকে তার গতানুগতিক চক্রে বেঁধে ফলে। কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নতুন কিছু করতে গেলে নানা দিক থেকে বাঁধা আসে, কাজের মূল্যায়নটা আধা আসে। কৌতুহল কৌতুকে পরিণত হয় অপরিণত সামাজিক আচরণে।

সমাজ ভালোর দীক্ষা দেয়,মূল্যবোধের আচরণ পদ্ধতি ভিক্ষা দেয়। ভালো কিছু করতে চাইলে উৎসাহ পায়না, মানুষের কেবলি ভৎসনা পায়।

মানবিক বৃত্তিকে সমাজ কখনো কখনো আবদ্ধ করে রাখে। মতের স্বাধীনতা,চলার স্বাধীনতার অধিকার কখনো কখনো লঙ্ঘিত হয়। গন্ডিবদ্ধ চিন্তা-চেতনার কেবল প্রকাশ ঘটে। নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন অপরের কাছ থেকে নিশ্চয়ন করতে হয়,প্রতিলিপির অযথা সত্যায়ন করতে হয়।

আত্মবিশ্বাস কমে,প্রতিভা সহসাই দমে। প্রতিভা কখনও গন্ডির মধ্যে থাকতে চায় না,আবদ্ধ হতে চায় না।

সমাজ সফলতায় সর্বদাই ভাগ বসায়,ব্যার্থতায় অকারণে পাশ কাটায়। নতুনকে সহজে বরণ করতে চায় না, নতুনের মূল্যায়ন করতে চায় না। নতুন আবিষ্কারে স্বীকৃতি দিতে চায় না,গবেষণায় সামান্য বরাদ্দ দিতে চায় না। সামনে এগিয়ে যাওয়া কোন স্বপ্নবাজ মানুষের পক্ষে দুরুহ হয়ে পড়ে।

সামাজিক বন্ধনের মধ্যে থেকেও অনেক মানুষ অভুক্ত থাকে, পক্ষান্তরে অন্য শ্রেণীর মানুষ অনেক অতিরিক্ত খাবারে যুক্ত থাকে। কারো উদরপূর্তি হয়না আবার কারো উগাড়পূর্তি হয়না। ( এক ধরনের বড় ধানের গোলা)।

বিচিত্র এই সামাজিক বন্ধন আমাদের সমাজে। সৃজনশীল কোন কাজ করতে গেলে প্রথমেই সৃজনশীলতা বিমুখ কোন মানুষের কাছ থেকে যোগ্যতার সনদপত্র নিতে হয়,তাকে অনীহাস্বত্বেও মানপত্র দিতে হয়।

নিজের যোগ্যতা অন্যের প্রশংসার জোরে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়। নিজের আত্মবিশ্বাসের জায়গাটা সর্বদাই অপূর্ণ রাখতে হয়।

এমন সমাজ কবে হবে যেখানে সত্যিকার অর্থেই সামাজিক বন্ধন থাকবে,প্রকৃত অর্থেই প্রাণের স্পন্দন থাকবে? যেখানে কোন মানব সন্তান তার মৌলিক চাহিদা পূরণের অভাবে মারা যাবে না, মনুষ্যত্বের কখনও মরণ হবে না? মনুষ্যত্ব বিনাশের কোন ক্রন্দন শোনা যাবে না।

যেখানে সত্যিকার অর্থেই থাকবে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহযোগিতার এক অনন্য নিদর্শন?



https://sahityashruti.quora.com/

Post a Comment

0 Comments